টেক্সট, ছবি বা সংগীতের মতো কনটেন্ট তৈরি করতে পারা জেনারেটিভ এআই খাতে গ্রাহকদের ব্যয় প্রযুক্তি বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকদের জন্য এআই সফটওয়্যার ও এটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার তৈরি উভয়ই খুব দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিতে গ্রাহকের খরচও ঊর্ধ্বমুখী। ২০৩০ সালের মধ্যে এ ব্যয় প্রায় ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার ডলারে পৌঁছতে পারে।
গ্লোবাল এআই কনজিউমার স্পেন্ডস ফোরকাস্ট, ২০২৪-২০৩০ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেনারেটিভ এআইয়ে গ্রাহক ব্যয় বাড়ার একটি বড় কারণ হলো ব্যক্তিগত ডিভাইসে প্রযুক্তিটির সংযোজন। ২০২৩-৩০ সালের মধ্যে জেনারেটিভ এআই অন্তর্ভুক্ত স্মার্টফোনের বিক্রি প্রতি বছর গড়ে ২৬ শতাংশ হারে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিতে গ্রাহকের ব্যয় বলতে বোঝানো হচ্ছে সাধারণ মানুষ বা প্রতিষ্ঠান কতটুকু অর্থ খরচ করে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছে বা এর সুবিধা নিচ্ছে। এর মধ্যে আছে সফটওয়্যার বা এআই টুলের সাবস্ক্রিপশন ফি ও হার্ডওয়্যার খরচ, যেমন ফোন বা কম্পিউটার।
গ্রাহকদের জন্য তৈরি চ্যাটবটের মতো এআই সফটওয়্যারের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত বাড়ছে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ হলো ব্যবহারকারীর সংখ্যা, যেখানে সম্মুখে আছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই, গুগল (জেমিনি) এক্সএআই (গ্রোক)। অ্যাপ বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারসের হিসাব অনুযায়ী, মোবাইল ফোনে চ্যাটজিপি ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের মোট ব্যয় গত সপ্তাহে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
চ্যাটজিপিটির ফ্রি সংস্করণ থাকলেও ব্যবহারকারীরা চাইলে মাসে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করে এর উন্নত মডেলগুলো চালাতে পারে। অন্য জনপ্রিয় এআই অ্যাপ যেমন ইমেজ জেনারেটর মিডজার্নি ও ক্যানভার পেইড সংস্করণও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যার খরচ মাসে প্রায় ১০ ডলার।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের প্রফেসর ভাসান্ট ধর বলেছেন, ‘জীবনকে সহজ ও উন্নত করে এমন প্রযুক্তিতে মানুষ খরচ করতে প্রস্তুত।’
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে চ্যাটজিপিটির আবির্ভাবের মাধ্যমে প্রযুক্তি শিল্পে বড় একটি বাজার তৈরি করেছে এআই চ্যাটবট। ২০২৪ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৯৮ কোটির বেশি মানুষ চ্যাটবট ব্যবহার করে। বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর এ পরিষেবার বাজার ছাড়াবে ১ হাজার কোটি ডলার।
চ্যাটবট বাজারের দ্রুত সফলতার পেছনে বেশকিছু কারণ উল্লেখ করেছেন প্রযুক্তিবিদরা। প্রথমত, আরো ভালো পারসোনালাইজেশন, অর্থাৎ ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা দেয়া। এরপর আছে শিল্পভিত্তিক চ্যাটবট, এগুলো স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ইত্যাদি বিশেষ খাতের জন্য ডিজাইন করা হয়। সেই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে চ্যাটবটকে সংযুক্ত করাও এর প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
গবেষণা পরিচালক মার্ক আইনস্টাইন বলছেন, ‘আগামী কয়েক বছর এআই হার্ডওয়্যারে ব্যয় স্থিতিশীল থাকবে। কিন্তু নতুন এআই ইকোসিস্টেমের সফলতা মূলত নির্ভর করবে সফটওয়্যারে ব্যয় বাড়ার ওপর।’
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী পাঁচ বছর এআই সফটওয়্যার বাজার ব্যাপক হারে বাড়বে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু কোম্পানি সফল হবে এবং কিছু কোম্পানি পিছিয়ে পড়তে পারে। যেমন সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী নিয়ে এ দৌড়ে এগিয়ে থাকবে ওপেনএআই। একই সঙ্গে গুগল ও মাইক্রোসফটের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগামী বছরগুলোয় সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।